এবং নিউজ

এলজি এর নতুন সংযোজন বাকানো পর্দার জি-ফ্লেক্স

স্মার্টফোনের জগতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের উতকর্ষতা প্রমান করার জন্য এক প্রকার উঠে পড়ে লেগেছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিখ্যাত স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলজি এবং তারা এইবার বাজারে এনেছে বাকানো ডিসপ্লে এর স্মার্টফোন। যদিও এপথের আরেক প্রতি্যোগী স্যামসাং এক্ষেত্রে তাদের নাম লিখিয়েছে সবার আগে। আর তাদের এই উতকর্ষতা প্রযুক্তি বিশ্বে পরিনত হয়েছে রীতিমত হটকেকে।

LG-G-Flex-review-lockscreen_0

কোরিয়ান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলজি তাদের এই স্মার্টফোনের নাম দিয়েছে জি-ফ্লেক্স। তাদের শীর্ষস্থানীয় প্রতিদ্বন্দী স্যামসাং এর সাথে বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বেশ আগেই তারা তাদের এই স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে আসতে পেরেছে। একই সাথে তারা বেশকিছু স্বনামধন্য টেক-বিশ্লেষক দের কাছে তাদের এই ডিভাইস সম্পর্কি মতামত চেয়েছে। যা বিভিন্ন টেক-বোদ্ধারা তাদের মার্কেটিং এর কৌশল বলে ধারনা করছেন।

একই সাথে তাদের এই ডিভাইস তৈরীর ঘোষনার পর থেকেই এর কনফিগারেশন নিয়ে ছিল নানা জল্পনা কল্পনা। তবেঁ এর চুড়ান্ত কনফিগারেশনে দেখা গেছে এর ৬ ইঞ্চির এলসিডি ডিসপ্লে। কিন্তু বাজিমাত করেছে এলসিডি এবং এলইডি এর সংমিশ্রনে। তার অর্থ এই দাঁড়ায় যদিও এর ডিসপ্লে এলসিডি তবেঁ এর পর্দা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে এলইডি প্রযুক্তি। গেমিং, ব্রাউজিং কিংবা মুভি দেখার অভিজ্ঞতায় এক নতুন মাত্রা দিতে সক্ষম এর ১২৮০*৭২০ পিক্সেলের বাকানো পর্দা।

যদিও নির্মাতা পতিষ্ঠান একে স্মার্টফোন বলে ঘোষনা দিয়েছেন তবেঁ আকারের দিক দিয়ে স্মার্টফোনটি ফ্যাবলেটের কাতারের। স্মার্টফোনটি একই সাথে তার স্মার্টনেস প্রকাশ করেছে এর ব্যাটারীর আকার এবং ক্ষমতার দিক দিয়ে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে নন-রিমুভেবল ৩৫০০মিলিএম্পিয়ার এর বাকানো ব্যাটারী।

স্মার্টফোনটির কনফিগারেশনে তারা ব্যবহার করেছে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ২.২৬ গিগাহার্টজের কোয়াডকোর স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর। একই সাথে হাই-এন্ড গ্রাফিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স এর জন্য পাবেন এড্রেনো ৩৩০ সাথে রয়েছে ৩২ গিগাবাইটের ইন্টারনাল মেমোরী। তবেঁ আফসোসের কথা বলতে হয় এতে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এক্সটারনাল মেমোরী স্লট সুবিধা প্রদান করে নাই। এতে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা যা এর আগের সংস্করন এলজি টু এর মত রিমোর্ট কন্ট্রোল সুবিধা সংবলিত। একই সাথে ব্যবহার করা হয়েছে ২.১ মেগাপিক্সেলের সেকেন্ডারী ক্যামেরা।

LG-G-Flex-review-homescreen-crop

এছাড়া স্মার্টফোনট নক অন ফিচারের মত আধুনিক সুবিধা রয়েছে যার ফলে পর পর দুইবার স্পর্শ করলে জেগে উঠবে।প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে-তবে ডিভাইসটি সাধারণ স্মার্টফোনের বদলে গ্যালাক্সি নোট বা সনি এক্সপেরিয়া জেড আল্ট্রার সঙ্গেই বেশি প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  এ ক্ষেত্রে যদি নোটকে এগিয়ে রাখা যায় বিশেষ কিছু ফিচারের জন্য, তাহলে জি ফ্লেক্সের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়াচ্ছে এক্সপেরিয়া জেড। হার্ডওয়্যারের দিক দিয়ে সব ডিভাইসগুলোর কনফিগারেশন মোটামুটি একই হলেও ভোক্তারা কোনটিকে বেশি গ্রহণ করেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশী বাজারে যদিও স্মার্টফোনটি তেমন সহজলভ্য নয় তবেঁ এর দাম বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৭৭হাজার ২০০টাকার কাছাকাছি।

এক নজরে ভালো

–     বাঁকানো ও উচ্চমানের ডিসপ্লে

–     এলজির নিজস্ব নতুন ফিচার

–     শক্তিশালী ব্যাটারি

এক নজরে খারাপ

–     ডিভাইসের আকার স্বস্তিদায়ক নয়

–     ডিসপ্লেকে আরও সমৃদ্ধ করা যেত

About the author

শামীম রেজা

বপ্ন দেখতে ভালো লাগে, ভালো লাগে জানতে। জানানোর মধ্যেও আনন্দ পাই। পাগলের মত সারাক্ষণ প্রোগ্রামিং করতে যেমন পছন্দ করি, তেমনি পছন্দ করি লিখতে, জীবন নিয়ে ভাবতে। অফিস, প্রোগ্রামিং আর আমার ছেলে, এই নিয়েই আমার দুনিয়া।

Leave a Comment